সংসদ সদস্যের নির্দেশে গুন্ডা হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট: আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরুত্তর।
- আপডেট সময় : ১১:০১:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৩৭ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর শাহজাহানপুর এলাকায় ‘নভেল টি (NOVEL TEA)’ ব্র্যান্ডের মালিক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা, চাঁদা দাবি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া ঢাকার শাহজাহানপুর থানার ১নং শান্তিনগর এলাকায় নিজস্ব মালিকানাধীন ভবনে ‘নভেল টি’ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। প্রতিষ্ঠানটির অধীনে অফিস, খুচরা ও পাইকারি বিক্রয়কেন্দ্র এবং একটি গোডাউন রয়েছে। ব্যবসার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত রয়েছেন তার তিন ছেলে-মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, ইফতেখার ইসলাম ভূঁইয়া ও তানভীর ইসলাম ভূঁইয়া। প্রতিষ্ঠানটি দেশীয় বাজারের পাশাপাশি ভারতের দার্জিলিং ও আসাম এবং শ্রীলঙ্কার সিলন থেকে উন্নতমানের চা সংগ্রহ করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করতো। পরিবারের দাবি অনুযায়ী, স্থানীয় সংসদ সদস্য তাদের কাছে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং তা পরিশোধ না করলে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাতে ওই সংসদ সদস্যের নির্দেশে ১৫ থেকে ২০ জন ব্যক্তি ‘নভেল টি’র কার্যালয়ে প্রবেশ করে পুনরায় চাঁদা দাবি করে। অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া, তার ছেলে এবং প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারের ওপর শারীরিক হামলা ও অশালীন আচরণ করে। একই সঙ্গে অফিস ও বিক্রয়কেন্দ্রে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় গোডাউনে রক্ষিত আনুমানিক দেড় কোটি টাকার চা লুটপাট ও নষ্ট করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। হামলায় আহত মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া, তার ছেলে এবং ম্যানেজার চিকিৎসা নেওয়ার পর বর্তমানে নিরাপত্তাজনিত কারণে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। ভুক্তভোগী পক্ষ অভিযোগ করে বলেছে, থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে পুলিশ অভিযোগ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়। এছাড়া পুলিশ প্রশাসন সংসদ সদস্যের প্রভাবে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। বরং ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের মিথ্যা মামলায় জড়িত করে হয়রানি করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজন। এলাকাবাসী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত সংসদ সদস্য নির্বাচনের আগে থেকেই চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। নির্বাচিত হওয়ার পর তার প্রভাব আরও বৃদ্ধি পায় এবং তার অনুসারীদের তৎপরতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যায়। তারা দাবি করেন, সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা প্রাননাশ ও মিথ্যা মামলার ভয়ে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে পারছেন না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।






