সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় ছাত্রলীগ নেতার পরিবারের ওপর হামলা
- আপডেট সময় : ০২:৩৪:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৫ ৩৪ বার পড়া হয়েছে
গত সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুর প্রায় ১২টার দিকে উপজেলার আলইতলী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, জগন্নাথপুর উপজেলার আলইতলী গ্রামের বাসিন্দা নেকবর হোসেনের মালিকানাধীন “সাব্বির অ্যান্ড সাবিরা অ্যাগ্রো ফার্ম”-এ একদল দুর্বৃত্ত হামলা চালায়। হামলার সময় খামারের বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর করা হয় এবং সেখানে থাকা বিভিন্ন সামগ্রী লুটপাট করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে খামারের কিছু অংশে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় বলেও পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন। পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এ হামলার সঙ্গে জড়িত। অভিযোগ রয়েছে, সাব্বিরকে না পেয়ে তারা পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা ও মারধর চালায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নেকবর হোসেনের ছেলে সাব্বির আহমদ সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শাখা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি, সভা-সমাবেশ ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। এদিকে সাব্বির আহমদের বোন সাবিরা বেগমও হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। জানা যায়, তিনি স্কুলে যাওয়ার পথে মুখোশ পরা চারজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে পিছু ধাওয়া করে এবং অশালীন ইঙ্গিত করতে থাকে। একপর্যায়ে তাকে অপহরণের চেষ্টা করা হলে তিনি দ্রুত পাশের একটি মার্কেটে ঢুকে আশ্রয় নেন এবং কৌশলে নিজেকে রক্ষা করেন বলে জানান।
বাংলাদেশ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর (২০২৪ সালের ৫ আগস্ট) দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা সাব্বির আহমদের উপর হামলা চালিয়ে তাকে হত্যার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই ঘটনার পর থেকেই সাব্বির ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকেন এবং আত্মগোপনে থাকতে বাধ্য হন বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার এক মুরব্বি বলেন, “সাব্বির আহমদ দেশে থাকাকালীন সময়ে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি দেশে ফিরলে তার ওপর আবারও হামলা হতে পারে। এমনকি তাকে হত্যা করার আশঙ্কাও রয়েছে। তিনি দেশে না থাকলেও তার পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।”
এ বিষয়ে জানতে জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মো. মাহবুবুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তার ব্যবহৃত নম্বরে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।






